৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির ৩ শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩

প্রকাশ:

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিক্ষিপ্ত একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন হুথিবিরোধী সামরিক জোট এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চালানো এই হামলায় খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরের বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জোটের মুখপাত্র জানিয়েছেন।

সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসী হুথি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরবের বেসামরিক লোকজন ও স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা যে উগ্র ও সহিংস মতবাদে বিশ্বাসী—বেসামরিকদের লক্ষ্য করে এসব হামলা তার প্রমাণ।” তিনি আরও যোগ করেন, সৌদি জোট যথাযথ দায়িত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে এই হামলার মোকাবিলা করবে এবং বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষায় বদ্ধপরিকর থাকবে।

সোমবারের এই হামলার দায় স্বীকার করে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, রোববার ইয়েমেনে সৌদি বিমানবাহিনী কর্তৃক চালানো ৭০টি বিমান অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিমান অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে সৌদি বিমানবাহিনী।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর আগে হুথিরা সৌদি জ্বালানি খাতে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ বাব এল মান্দেব প্রণালি দখল করে নেয় হুথি যোদ্ধারা, যা সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানির জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে আশ্রয় নিলে তার সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোট অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ইয়েমেনের অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি অর্ধেক সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের অধীনে রয়েছে।

শেয়ার করুন