দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে নতুন করে বড় ধরনের নীতি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে পুনঃতপশিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নতুন এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আগ্রহী ঋণগ্রহীতাদের মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, যারা বাছাই কমিটির সুপারিশে বা গত বছরের সার্কুলারের আওতায় ইতোমধ্যে ঋণ পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের সুবিধা নিয়েছেন, তারাও নতুন করে এই আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
খেলাপি না হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে ঋণের অবশিষ্ট মেয়াদের ৫০ শতাংশের সঙ্গে আরও চার বছর যোগ করে মেয়াদ বাড়ানো যাবে। এছাড়া এক হাজার কোটি টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছর মেয়াদে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক অবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এই নীতি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। সার্কুলারের আওতায় আসা সব আবেদন চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বেসরকারি খাতের এক ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি মনে করেন, ঋণ আদায়ে কঠোর না হয়ে বারবার ছাড় দেওয়া হলে ঋণ পরিশোধ না করার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তার মতে, প্রকৃত সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেসভিত্তিক সুবিধা দেওয়া বেশি কার্যকর হতো।
উল্লেখ্য, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এই অঙ্ক ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা বিশেষ নীতি সহায়তার পর ডিসেম্বর শেষে কমে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায় নেমেছিল।





