রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় আরোহণের পর বিএনপির সামনে এখন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই দলটির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যে ৬ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত করেছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট, তীব্র গ্যাস সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্য বড় অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এসব ক্ষেত্রে শতভাগ সফলতা এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। যদিও বর্তমান সরকারের আমলে কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও ছিনতাই, খুন ও মব-সন্ত্রাসের মতো ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই সামনে আসছে। বিশ্লেষকরা এসব পরিস্থিতি শক্ত হাতে দমন করার তাগিদ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখাও বিএনপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গত দেড় দশকের বেশি সময় বিএনপির রাজনীতি ছিল মূলত সরকারবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক। সেই সময় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গুম, খুন, মামলা, গ্রেফতার ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। এরপর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিএনপি জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন অভ্যন্তরীণ ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো দূরদর্শিতার সঙ্গে কাটিয়ে উঠে দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষা, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ড এবং বিগত দেড় দশকের গুম-খুনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এছাড়া ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো প্রভাবশালী শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা এবং দলের নিজস্ব রাজনীতির ধারা সক্রিয় রাখা বিএনপির জন্য পরীক্ষার সমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সক্ষমতা বিএনপির আছে। তিনি বলেন, সরকারের কাজ হচ্ছে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণ ও দেশের পক্ষে কাজ করা এবং সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করা। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার অবশ্য মনে করেন, বিদ্যুৎ সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী বিএনপির কাছে জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। তবে জ্বালানিসহ নেতাকর্মীদের নানা কর্মকাণ্ড জনপ্রিয়তাকে বাধাগ্রস্ত করছে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, তারেক রহমানের সামনে আগামী এক দশক দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে দলকে সুসংগঠিত রাখা ও বেপরোয়া নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সংসদ-সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, প্রশাসনের একটি অংশ সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে মরিয়া, যা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেন। দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি বর্তমানে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সকালে নয়াপল্টনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ৫ সেপ্টেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। ২০০৭ সালের পর এবারই প্রথম সুসময়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে দলটি।





