তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে চাপে নেতানিয়াহু

প্রকাশ:

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ইয়োসি মেকেলবার্গের মতে, তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপগুলোর পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব কাজ করতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

মেকেলবার্গের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তুরস্কের সীমান্তের কাছে সিরিয়ার আবু দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ইসরাইল দাবি করেছিল যে ওই ঘাঁটিতে তুরস্ক সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছিল। তবে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে তুরস্ককে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাকও ইসরাইলের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, তুরস্ককে সংঘাতে টেনে নেওয়ার জন্য ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে থাকতে পারে।

মেকেলবার্গ বলেন, সিরিয়ার নতুন নেতা আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে যেতে আগ্রহী নয়। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়া এখন দেশ পুনর্গঠন, অর্থনীতি সচল করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকে মনোযোগ দিতে চায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে ৪৭ বছর পর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে সরিয়েছে, যা দামেস্কের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকের মতে, সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য উপস্থিতিকে সরাসরি ইসরাইলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখার যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তুরস্কের একটি প্রতিনিধি দল ওই বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের সম্ভাবনা যাচাই করতে সেখানে গিয়েছিল—এটি সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সমান নয়।

মেকেলবার্গের মতে, তুরস্কের মতো ন্যাটো সদস্য দেশের সঙ্গে সরাসরি উত্তেজনা সৃষ্টি করলে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তার বিশ্লেষণে, নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক নীতি ইসরাইলের জাতীয় স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার হিসাব দ্বারা বেশি প্রভাবিত হতে পারে।

শেয়ার করুন