কথা বলার নীতিঃ কিভাবে কথা বলতে হবে এ সম্পর্কে কোরআন কি বলে আসুন জেনে নিই।

কথা বলার নীতিঃ
১. কথা বলার পূর্বে সালাম দেয়া।
______( সূরা নূরঃ ৬১)
২. সতর্কতার সাথে কথা বলা
(কেননা প্রতিটি কথা রেকর্ড হয়)
______( সূরা ক্বফঃ ১৮) ।
৩. সুন্দরভাবে ও উত্তমরূপে কথা বলা।
___( সূরা বাক্বারাহঃ ৮৩; বুখারী হ/ ১৪১৩)।
৪. অনর্থক ও বাজে কথা পরিহার করা।
_____( সূরা নূরঃ ৩; বুখারী হা/ ৩৫৫৯) ।
৫. কন্ঠস্বর নিচু করে কথা বলা।
___( সূরা লুকমানঃ ১৯ সূরা হুজুরাতঃ ২ – ৩)
৬. বুদ্ধি খাটিয়ে কথা বলা।
____(সূরা নামলঃ ১২৫) ।
৭. সঠিক কথা বলা ও পাপ মোচনের দোয়ার উন্মুক্ত
করা
_____(সূরা আহযাবঃ ৭১ – ৭২) ।
৮. গাধার মত কর্কশ স্বরে কথা না বলা।
____( সূরা লুকমানঃ ১৯; তিরমিযী হা/ ৪৮৫৯)
৯. উত্তম কথা বলে শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করা।
______(সূরা হা- মীম সাজদাহঃ৩৪) ।
১০. উত্তম কথায় দাওয়াত দেয়া।
____( সূরা হা- মীম সাজদাহঃ৩৪) ।
১১. ঈমানদারদের কথা ও কাজ এক হওয়া।
______( সূরা ছফঃ ২) ।
১২. পরিবারের সদস্যদের প্রতি ক্ষমার নীতি
অবলম্বন করা ।
______( সূরা আ’রাফঃ ১৯৯) ।
১৩. মেয়েরা পর পুরুষের সাথে আকর্ষণীয় ও
কোমল ভাষায় কথা না বলা।
_____( সূরা আহযাবঃ ৩২) ।
১৪.মূর্খ ও অজ্ঞদের সাধ্যমত এড়িয়ে চলা।
______( সূরা ফুরকানঃ ৬৩) ।

চরম হাসির কিছু জোকস, আপনি কি ১৮+ জোকস চানঃ অতীতের কথা ভুলে যান।

নেতা : আগামি মাস থেকে আমরা যৌতুকবিরোধী অভিযানে নামব।
জনৈক ব্যক্তি : এ মাসেই নয় কেন স্যার?
নেতা : কারণ এই মাসে আমার ছেলের বিয়ে, আর আগামি মাসে মেয়ের বিয়ে।

———————————-
———————————-

ক্রেতা : আপনার কাছে খারাপ/পঁচা আলু আছে? থাকলে সব পঁচা আলু দিয়ে দিন। আমার গবাদি পশু গুলোকে খাওয়াবো।
বিক্রেতা : (ভালগুলো রেখে দিয়ে) এই যে নিন।
ক্রেতা : এবার ভাল গুলো থেকে ২ কেজি আলু দেন।!।
———————————

আম চুরি করতে একটি ছেলে গাছে উঠেছে। গাছের মালিক হাতেনাতে তাকে ধরে ফেলল।
” ওই বদমাশ, আমার আমগাছে কি করিস?”

“ইয়ে আংকেল, কয়েকটি আম মাটিতে পড়ে ছিল , ওগুলো গাছে তুলে রাখছি”।

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ

যখন আপনি একাকীত্ব বোধ করবেন, আয়নার সামনে যাবেন এবং বলবেন ” সত্যিই আমি অনেক সুন্দর”। আপনার খারাপ লাগা টা কমে যাবে। তবে এটাকে অভ্যাসে পরিণত করবেন না কারণ, জানেনইতো মিথ্যাবাদীরা নরকে যায়!

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ

ভিখারি : স্যার, ২টা টাকা দেন।
পথচারী : আরে একটু আগেইতো তোমাকে ২ টাকা দিলাম।
ভিখারি : অতীতের কথা ভুলে যান। অতীত নিয়ে পড়ে আছেন বলেই দেশের এই অবস্হা।

জেনে নিন, সাতটি গোপন কথা যা আপনার স্ত্রী কখনও মুখে বলবেন না !!!!

বেশীরভাগ পুরুষেরই নারীদেরকে বুঝে উঠা প্রায়শই খুব কষ্টকর হয়ে যায়। এমনকি সেই নারীকেও যার সাথে সে বহু বছর বিবাহিত জীবন পার করেছে। এক মুহূর্তে তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, পর মুহূর্তেই হয়ত শিশুর মত কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন। তিনি কোন কিছু নিয়ে অভিযোগ করছেন, আপনি হয়ত সেই সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায় তার নানারকম উপায় তাকে দেখাচ্ছেন কিন্তু তাতেও তিনি সন্তুষ্ট হচ্ছেন না।
আপনার স্ত্রী কি বলছেন তা নিয়ে বেশী দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হবেন না; বরং তিনি যা বলছেন না সেটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন।

১) সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আপনার স্ত্রী আপনার ভালবাসা চান
✔ যখন কোন স্ত্রী তার স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা কম দেখায়, বিনিময়ে স্বামী স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা কমে যায়।✔ যখন স্বামী স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা কম দেখায়, বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা কমে যায়।এবং এটি একটি দুষ্টচক্র যা চলতেই থাকে।
এই চক্র শুরু হওয়ার আগেই তা ভেঙ্গে ফেলুন। আপনার স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালবাসা প্রকাশ করুন। তিনি ঠিক সেটাই চান।
তার ভুলত্রুটি, দোষ থাকা সত্ত্বেও তাকে ভালবাসুন।ইন শা আল্লাহ, তিনিও আপনাকে আপনার ভুলত্রুটি ও দোষ থাকা সত্ত্বেও শ্রদ্ধা করবেন।

২) আপনার স্ত্রী একঘেয়েমিতে ক্লান্ত
প্রতিটি দিন একই রকম। সপ্তাহ আসে, সপ্তাহ যায়। এই একঘেয়েমিতে তিনি ভীষণ ক্লান্ত। তাকে সন্তান প্রতিপালন করতে হয়, সংসার সামলাতে হয়, তারপর আবার আপনার প্রয়োজন মেটাতে হয়, আপনার মন রক্ষা করতে হয়।প্রতিদিন এমনটি করতে হবে ভাবতেই তো কোথাও পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করবে পুরুষদের। ভেবে দেখুন যে কোন সাধারণ মুসলিমা স্ত্রীর কেমন অনুভূতি হয়।আর কর্মরত নারীদের কথা ভুলে গেলে হবে না। অনেক নারীকে সারাদিন চাকরি করে এসেও সংসার সামলাতে হয়।
কাজেই ভাইয়েরা আমার, করজোড়ে আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনার স্ত্রী কে সেই অনুভূতিটি উপহার দিন যে – তিনি বিশেষ। তাকে একটু একঘেয়েমি থেকে ছুটি দিন।
তাকে মাঝে মাঝে বাইরে খেতে নিয়ে যান। অথবা তার জন্য তার প্রিয় খাবারটি বাইরে থেকে কিনে আনুন। অথবা তাকে নিয়ে এমনিই কোথাও বেড়িয়ে আসুন।কিছু একটা অন্তত প্রায়ই করুন, তার একঘেয়েমির বন্দিদশা ভেঙ্গে দূর করে দিন।

৩) তিনি প্রশংসিত হতে চান
প্রশংসা; কে না পেতে চায়? কেউ চায় না যে তার কষ্টের শ্রম কেউ লক্ষ্যও না করুক কিংবা এর চেয়েও খারাপ হল- সবাই তার সারাদিনের পরিশ্রমের কাজকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়ে তার সঠিক মূল্যায়ন টুকুও না করুক।
আপনার স্ত্রী আপনার ময়লা কাপড় পরিস্কার করতে বাধ্য নন। তিনি আপনার খাবার তৈরি করতেও বাধ্য নন। তবুও তিনি সবসময় তা করে চলছেন। আর তিনি এসব তার জীবনের অন্যান্য অনেক কিছুর চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে করছেন।
✔ সন্তান প্রতিপালন
✔ কাজে অথবা স্কুলে যাওয়া
✔ আত্মীয় স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা✔ আরও ভাল মুসলিমাহ হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
আপনার স্ত্রীকে দেখিয়ে দিন যে আপনিও তার পরিশ্রমের গুরত্ব বোঝেন, এবং আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞ কারণ তিনি তার সাধ্য মতো আপনার এবং আপনার পরিবারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
একটি ছোট্ট ‘ধন্যবাদ’ দিয়ে শুরু করলেও মন্দ হবে না।

৪) তিনি প্রচণ্ড ঈর্ষাকাতর
একারনেই তিনি বহুবিবাহ নামক বৈধ বিষয়টি সহজে মেনে নিতে সম্পূর্ণ নারাজ। নিজেকে তার অবস্থানে বসিয়ে চিন্তা করে দেখুন, আপনিও মানতে পারেন কিনা। আপনার স্ত্রীর সামনে অন্য কোন নারীকে নিয়ে কোন কথা বলার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকুন। কক্ষনো আপনার স্ত্রীকে অন্য কোন নারীর সাথে তুলনা করবেন না।
✔ কক্ষনো তাকে কোন নায়িকার সাথে তুলনা করবেন না।
✔ কখনই তাকে আপনার মা অথবা বোনের সাথে তুলনা করবেন না।
✔ ভুলেও তার সাথে আপনার আগের স্ত্রী বা অন্য স্ত্রীর (যদি থাকে) তুলনা করবেন না।
✔ তিনি এটা জানতে এবং বিশ্বাস করতে চান যে তাকে ঘিরেই আপনার জগত। কাজেই তাকে সেরকমটিই অনুভব করান।রাসুল (ﷺ)-এর স্ত্রীগণের যারা সমগ্র নারী জাতির জন্য উদাহরন, এমনকি তাঁদের মধ্যেও এই ঈর্ষাটি ছিল। আয়েশা (রাঃ)ও, খাদিজা (রাঃ) কে নিয়ে ঈর্ষা বোধ করতেন যিনি তখন জীবিতও ছিলেন না।
আপনার স্ত্রীর মধ্যেও এই ধরনের ঈর্ষার অস্তিত্ব জেনে রাখুন এবং তার মর্যাদা দিন।

৫) একজন ভাল মুসলিমাহ হওয়ার জন্য তিনি আপনার সহযোগিতা চান
পুরুষের তার পরিবারে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আর সেটাই আজকাল অনেক মুসলিম পুরুষের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যে শুধু সঠিক নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হচ্ছে তাই না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই সে স্ত্রীর (অথবা মা এর কিংবা তার জীবনের অন্য কোন নারীর) কথায় উঠছে, বসছে।
আপনার স্ত্রী চান আপনি তাকে নেতৃত্ব দিন। কারণ নেতৃত্বের সাথে জড়িয়ে আছে দায়িত্বশীলতার বিষয়টি। আপনার স্ত্রী চান আপনি তার দায়িত্বও পরিপূর্ণ ভাবে গ্রহন করেন। আর একজন ভাল মুসলিমাহ হওয়ার পথে স্ত্রীকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে? তবে মনে রাখবেন, এই নেতৃত্ব দেওয়াকে শাসন করার সাথে যেন গুলিয়ে না ফেলেন। এই নেতৃত্বের অর্থ সঠিক পথের নির্দেশনা দেওয়া ও সে পথ অনুসরণে যাবতীয় সহযোগিতা করা।
► কিন্তু আপনি নিজেই যদি উত্তম আদর্শের অনুসারী না হন তাহলে কি করে আরেকজনকে শেখাবেন যে কিভাবে ভাল হতে হয়? কাজেই আপনাকে আগে আপনার নিজের ঈমান মজবুত করতে হবে। আগে নিজেকে শুধরাতে হবে, তারপর আপনার স্ত্রীকেও ভদ্রতা, মর্যাদা, এবং হিকমতের সাথে বুঝাতে হবে।
উদাহরণ স্বরূপ, আপনার স্ত্রী যদি ঠিক মতো পর্দা না করেন তাহলে প্রথমে তার জন্য এমন পোশাক পরিচ্ছদ কিনে আনুন যাতে তিনি ঠিক মতো পর্দা করতে পারেন। তারপর তাকে প্রশংসা করে বলুন যে আপনি তাকে একজন সম্ভ্রান্ত নারী রূপে দেখতে ভালবাসবেন, এবং তাকে এমন পোষাকে দেখতে চান যে পোশাক আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে। তিনি যদি নিয়মিত স্বলাত আদায় না করেন, সংসারের কাজের অজুহাত দেখান, আপনি তার কাজে সাহায্য করে তার জন্য ১৫-২০ মিনিট সময় বের করে দিয়ে আগে স্বলাত আদায় করে নিতে বলুন। আপনিই সবচেয়ে ভাল বুঝবেন কিভাবে বললে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি মনে আপনার কথা শুনবেন।

৬) তিনি ক্রমাগত অভিযোগ করতে ভালবাসেন না, কিন্তু মাঝে মাঝে আপনিই তাকে বাধ্য করেন
সবাই এটা মনে করেন যে নারীরা তাদের স্বামীদের সাথে খুঁতখুঁত করতে পছন্দ করেন। কিন্তু সেটা পুরোপুরি সত্য নয়। হ্যা, কিছু মানুষ (নারী এবং পুরুষ) এমন আছেন যাদেরকে কিছুতেই সন্তুষ্ট করা যায় না। আপনি যা-ই করুন না কেন, তারা সেটাতে দোষ ধরবেনই। আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
“আমাকে জাহান্নাম দেখান হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারণ) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরি করে?’ তিনি বললেন, ‘তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে। তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারও প্রতি ইহসান করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, ‘আমি কখনও তোমার কাছ থেকে ভাল ব্যবহার পাইনি।’ [সহীহ বুখারীঃ ২৮; ইফা]
কাজেই, বোনদেরকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিৎ যে, তাদের স্বামীরা তাদের জন্য যা করেন, তা যেন তারা তুচ্ছজ্ঞান করে অকৃতজ্ঞতা না করেন।
► কিন্তু, ভাইয়েরা প্রায়শই তাদের স্ত্রীর জন্য জিহ্বা সংযত রাখা কঠিন করে দেন। লক্ষ্য করে দেখুন, আপনিই হয়তো প্রশংসার বদলে সবসময় স্ত্রীর দোষ ধরছেন আর তিনিও পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য আপনার খুঁত খুজে বের করছেন। কিংবা হয়তো আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট কাজ করছেন না (হতে পারে তা সাংসারিক টুকটাক সহযোগিতা) যা পুষিয়ে নিতে তাকে বাড়তি খাটুনি করতে হচ্ছে। অথবা হয়তো আপনি মানুষ হিসেবে খুব বেশী আদর্শ নন।
সবশেষে আবারো বলছি, আগে নিজের ভেতর উন্নয়ন ঘটান; আপনার স্ত্রীর খুঁতখুঁত এবং অভিযোগ করার সুযোগই কমে যাবে।

৭) সবচেয়ে বেশী তিনি চান, আপনার সাথে একটি স্থায়ী ও সুখী সম্পর্ক
নারীরা এটা ভেবে বিয়ে করে না যে ‘বিয়ে করে খুব মজা হবে।’ তারা বিয়ে করেন কারণ তারা একটি সুখী সংসার জীবন চান; এবং তারা আশায় থাকেন যে আপনি তাকে তা দেবেন। ধর্মীও দায়িত্ব ও কর্তব্যের পর এটাই একজন মুসলিমাহ নারীর প্রধান চাওয়া- একটি সুখী, স্থায়ী, মুসলিম পরিবার গড়ে তোলা। মজার ব্যাপার হল, এটা দেওয়া আপনার জন্য খুবই সহজ কাজ।

ক) বোধহীন মানুষের মতো আচরণ করবেন না। তার জন্য একজন ভালো স্বামী হন। তার প্রতি আপনার ভালোবাসা মুখে প্রকাশ করুন।

খ) কখনও তাকে তালাক বা আরেকটি বিয়ের ভয় দেখাবেন না। হ্যাঁ, আপনার তা করার অধিকার আছে। কিন্তু এই বিষয়গুলোকে নিয়ে ভীতি প্রদর্শন করা আপনাদের সাংসারিক জীবনের জন্য অনুপযোগী এবং ক্ষতিকারক। এরকম ভীতি দেখিয়ে কখনও কল্যাণ আশা করতে পারেন না। কারণ এধরনের ভীতি কখনই তার মনে আপনার জন্য শ্রদ্ধা বা ভালবাসা বাড়িয়ে দেবে না, বরং উল্টোটাই হবে।
গ) আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। শয়তানের প্রতারণার ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকুন। স্ত্রীর বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করুন। অন্য সবকিছুর চেয়ে, স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদে সবচেয়ে বেশী আনন্দিত হয় শয়তান।
দেখলেন? সবকিছু এতটা কঠিনও না এখন, তাই না?

নব্বই দশকের যে কার্টুনগুলোর কথা কখনো ভোলা যাবে না

১৯৯২-৯৩ সালের কথা। সাবির আর সাবাব দুই ভাই (কাল্পনিক), স্কুল থেকে ফিরেই তারা বসে পড়ত টেলিভিশনের সামনে। প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে শুরু হতো একটা না একটা কার্টুন। নিত্যদিনের পড়াশোনার ফাঁকে এই আধা ঘণ্টার কার্টুন শো-ই ছিল তাদের জীবনে স্বস্তির এক ঝলক দমকা বাতাসের মতো। শুধু সাবির কিংবা সাবাবই না, নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশী বেশির ভাগ শিশুরই বিনোদনের প্রধান অবলম্বন ছিল গডজিলা, ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট, সামুরাই এক্স, পপাই, টম অ্যান্ড জেরি, উডি উডপেকার, জুমানজি কিংবা বানানাস ইন পাজামাস-এর মতো কার্টুনগুলো।

নব্বইয়ের দশকের মাঝমাঝি সময়ে এই তালিকায় যুক্ত হয় মীনা কার্টুনের নাম। তখন তো আর এখনকার মতো চ্যানেলের ছড়াছড়ি ছিল না, বিজ্ঞাপনের ভিড়ে মূল অনুষ্ঠান হারিয়ে যাওয়ার আশংকাও ছিল না। তাই শিশুদের সাথে তাদের বাবা-মায়েরাও যে একই কার্টুনে মজে থাকতেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

মীনা

 

নয় বছর বয়সী উচ্ছল, প্রাণবন্ত, সাহসী আর প্রগতিশীল মেয়ে মীনা। সে স্কুলে যেতে চায়, নতুন কিছু শিখতে চায়, জানতে চায়। বাবা-মায়ের শত আদরের সেই মেয়েটি সমাজের নানা বৈষম্য আর অযাচিত প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। ছোট ভাই রাজু, পোষা টিয়াপাখি মিঠু, ছোট বোন রাণী, বাবা, মা, দাদি, বন্ধু-বান্ধব, গ্রামবাসী এই নিয়েই তার জীবন। ইউনিসেফ এবং হান্না-বারবারা কার্টুনসের সহায়তায় প্রচারিত এই কার্টুনটির সাথে বাংলাদেশের কমবেশি প্রায় প্রতিটি শিশুই পরিচিত।

বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন নির্মাণ ও ব্যবহারে উৎসাহিত করা, মেয়েদের স্কুলে পাঠানো, অপরিণত মেয়েদের বিয়ে নয় বরং স্কুলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, যৌতুক বন্ধ করা, ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য সমান পুষ্টি ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা, সম-অধিকার পেলে মেয়েরাও অনেক কিছু করতে পারে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয় মীনা। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, হিন্দি এবং নেপালি ভাষায় প্রচারিত এই শিক্ষামূলক কার্টুনটির মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও তার প্রতিকারের বিষয়ে আপনা থেকেই সচেতন হতে শেখে শিশুরা। মীনার মতো এত জনপ্রিয় কার্টুন বাংলাদেশে খুব কমই আছে।

গডজিলা

অ্যাডেলাইডের আগের দুটো প্রোডাকশন ‘ম্যান ইন ব্ল্যাকঃ দ্য সিরিজ’ এবং ‘এক্সট্রিম ঘোস্টবাস্টার্স’ এর স্টাইলের সাথে মিল রেখে ১৯৯৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর তোহোর গডজিলার অনুসরণে অ্যাকশন, সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার ঘরানার একটি কার্টুন তৈরি করে ডেভিড হার্টম্যান, স্যাম লিউসহ বেশ কয়েকজন নির্মাতা। ৪০ এপিসোডের এই কার্টুনটিতে মূলত মানবিক পরিবেশ বা বাস্তুসংস্থানের সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা এক দল গবেষককে চিত্রায়িত করা হয়েছে।

দর্শক কি আদৌ কোনোদিন ভুলতে পারবে দানবাকৃতির মিউট্যান্ট প্রাণীগুলোর অনিষ্ট থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেয়া গডজিলাকে? কিংবা ইয়ান জিয়েরিংয়ের নেপথ্য কণ্ঠে উপস্থাপিত বলিষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী ড. নিককে? শৈশবের সঙ্গী এলসি চ্যাপম্যান, ম্যান্ডেল ক্র্যাভেন, র‍্যান্ডি হার্নান্দেজ, মনিকা দুপ্রে অথবা বিশ্লেষণধর্মী রোবট নাইজেল আজীবন তাদের মানসপটে এক আনন্দের শিহরণ বইয়ে দিয়ে যাবে। এই কার্টুনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ‘গডজিলা’ নামে সিনেমাও বানানো হয়েছে।

ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট অ্যান্ড দ্য প্ল্যানেটিয়ার্স

পাঁচ প্ল্যানেটিয়ার্স বা মর্ত্যবাসীর আংটি থেকে বের হওয়া পাঁচ ধরনের ক্ষমতা ‘আর্থ, ফায়ার, উইন্ড, ওয়াটার ও হার্ট’ (মাটি, আগুন, বাতাস, পানি ও হৃৎপিণ্ড) একত্রিত হয়ে হাজির হওয়া ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট আর তার মুখ নিঃসৃত সেই অমোঘ বাণী ‘আই অ্যাম ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’- নব্বই দশকের যেকোনো কার্টুনপ্রেমীকে নস্টালজিক করে দিতে বাধ্য! আমেরিকান অ্যানিমেটেড পরিবেশবাদী টেলিভিশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে কার্টুনটি নির্মাণ করেন টেড টার্নার এবং বারবারা পাইল।

১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রচারিত এই সিরিজটির দর্শকপ্রিয়তার কারণে বাধ্য হয়ে ১৯৯৩ সালে সিরিজটির সিক্যুয়াল ‘দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চারস অফ ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’ নির্মাণ করেন হান্না-বারবারা এবং টার্নার প্রোগ্রাম সার্ভিস। ভিলেন চরিত্রে খ্যাতনামা সব অভিনেতারা কণ্ঠ দেয়ায় সে সময় গোটা যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে এশিয়ায়ও ব্যাপক নন্দিত হয়ে ওঠে ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট।

পরিবেশ ধ্বংসকারী হগিশ গ্রিডলির অতর্কিত আক্রমণে নিজের বিশ্রামাগার, অরণ্য সব হারিয়ে পৃথিবীর প্রাণীদের অস্তিত্ব সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন প্ল্যানেটের আত্মা গায়া। তিনি পৃথিবীর বুক থেকে কোয়ামে, লিংকা, হুইলার, গি এবং মা-টি নামক পাঁচজনকে বেছে নিয়ে পাঁচটি বিশেষ ক্ষমতাধর আংটি উপহার দেন তাদের। বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ দূষণ আর বাস্তুসংস্থানের জন্য হুমকি স্বরূপ কার্যক্রম বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় তারা। কোনো বিপদে পড়লে পাঁচ আংটির ক্ষমতা মিলিয়ে তারা ডেকে আনে এই গ্রহের দলনেতা ক্যাপ্টেন প্ল্যানেটকে। কী চমৎকার একটি ধারণার মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের মনে পরিবেশ রক্ষার চেতনা প্রবেশ করিয়ে দেয় এই কার্টুনটি! এই কার্টুনের উপর ভিত্তি করে ২০১৮ সালে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও একই নামে একটি চলচ্চিত্র দর্শকদের উপহার দিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। চলচ্চিত্রটিতে নাম ভূমিকায় গ্লেন পাওয়েলের অভিনয় করার জোর সম্ভাবনা আছে।

পপাই দ্য সেইলর ম্যান

‘আই অ্যাম পপাই দ্য সেইলর ম্যান’ থিম সং গাওয়া আর স্পিনিচ (পালংশাক) খেয়ে শত্রুদের সাথে ঢিশুম ঢিশুম করা পপাই চরিত্রটির প্রতি যেন এক ধরনের নেশা ধরে যায় শিশুদের। তাই তো ১৯১৯ সাল থেকে প্রকাশিত থিম্বল থিয়েটার কার্টুন ধারাবাহিকের দশ বছর বয়সে আগমন ঘটা এই চরিত্রটি ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত কাঁপিয়েছে টেলিভিশন জগত। আর এখন ইউটিউবের দুনিয়ায়ও তার কদর কোনো অংশে কম নেই। মার্কিন কার্টুনিস্ট এলিজে ক্রিসলার সেগার এই জনপ্রিয় কার্টুনের নির্মাতা। ১৯৩০ এর দশকে পপাই একটি জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রে পরিণত হয়।

উইলিয়াম বিলি কস্টেলোর নেপথ্য কণ্ঠে পপাই চরিত্রটি কিন্তু একটা সময় হুইফল হেনের মাথায় হাত বুলিয়ে শক্তি অর্জন করতো। ১৯৩২ সালের পরে এই বিষয়টি পরিবর্তন করে পালংশাকের আইডিয়াটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। স্ত্রী অলিভ অয়েল আর একমাত্র সন্তান সুইপিয়াকে সাথে নিয়ে কখনো কখনো সে শার্লক হোমসের মতো গোয়েন্দাগিরিতেও নেমে যায়। দু-তিন কৌটা স্পিনিচ খেয়ে অবলীলায় সে সুপারম্যানের মতো এক হাতে ট্রাক পর্যন্ত উঁচু করে ফেলতে পারে! তার এই জনপ্রিয়তা কার্টুন চরিত্র থেকে শুরু করে কমিকস বই, ভিডিও গেম, আর্কেড এমনকি বড় পর্দায় পর্যন্ত তাকে স্থান করে দিয়েছে। চলচ্চিত্রে পপাইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অস্কার জয়ী অনবদ্য অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস।

বানানাস ইন পাজামাস

‘আমি যা ভাবছি তুমিও কি তাই ভাবছ বি১?’

‘আমারও তা-ই মনে হচ্ছে বি২।’

 

হেলেনা হ্যারিসের ‘বানানাস ইন পাজামাস’ সিরিজের মানবরুপী দুই বানানা বি১ আর বি২ মাথা ঘুরিয়ে হাসিমুখে যে বিনোদন ১৯৯৫ সাল থেকে এই পর্যন্ত দিয়ে আসছে, তার কোনো তুলনা হয় না। এটি মূলত একটি অস্ট্রেলিয়ান শিশুতোষ টেলিভিশন শো যা পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন ভাষায় ডাবিং করে প্রচারিত হয়েছে। সেই ধারায় বাদ যায়নি বাংলাদেশও। ক্যারি ব্লিটনের বানানাস ইন পাজামাস গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাণ করা হয় এই টেলিভিশন সিরিজটি।

সঙ্গী তিন টেডি বিয়ার অ্যামি, লুলু আর মর্গান, র‍্যাট ইন অ্যা হ্যাট আর বি১, বি২ ‘কাডলস অ্যাভিনিউ’ নামক একটি এলাকায় একসাথে বসবাস করে। তাদের দৈনন্দিন জীবনের হাসি, আনন্দ, নাচ, গান, পারস্পারিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব আর দুষ্টুমির গল্প ‘বানানাস ইন পাজামাস’। সাউদার্ন স্টার এন্টারটেইনমেন্টের এই সিরিজটি থেকে ২০০৮ সালে নির্মাণ করা হয় একটি চলচ্চিত্র।

সামুরাই এক্স

সেই ১৯৯৪ সালের কথা। তখন না ছিল এত টিভি চ্যানেল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট; না ছিল এখনকার মতো হাজারো সহস্র মাঙ্গা সিরিজ (জাপানিজ অ্যানিমে)। তাই তখন রাজত্বটা ছিল রুরৌনি কেনশির একার। নবুহিরো ওয়াৎসুকির লেখা সচিত্র এই সিরিজটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ১৮৭৮ সালের জাপানিজ মেইজি পিরিয়ডের কথা। সে সময়ের এক দুর্ধর্ষ তলোয়ার যোদ্ধা কেনশি জাপানের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। শান্তি, সংঘর্ষ, প্রেম সবকিছু মিলিয়ে অসাধারণ এই সিরিজটি দেখলে অ্যানিমেশন চরিত্র কেনশির প্রতি মায়া জন্মাতে বাধ্য।

কেনশির গল্প নিয়ে পরবর্তীতে দুটি চলচ্চিত্র, মাঙ্গা, অ্যানিমে ফিল্ম সিরিজ সহ ছোট পর্দা, বড় পর্দায় অসংখ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে।

তিন অলৌকিক শিশু ঘটনাঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই দোলনায় কথা বলেনি।

আবু হুরায়রা (রা.) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, (বনী ইসরাঈলের মধ্যে) তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই দোলনায় কথা বলেনি।

(১) ঈসা ইবনে মারইয়াম।

মারইয়াম (আলাইহিসসালাম)-এর গর্ভে ঈসা (আলাইহিসসালাম) অলৌকিক ভাবে জন্মগ্রহণ করলে লোকজন তার ব্যাপারে সন্দিহান হ’ল।তখন মারইয়াম (আলাইহিসসালাম)-এর ইঙ্গিতে ঈসা (আলাইহিসসালাম) তাঁর মাতার পক্ষ থেকে জবাব দিয়ে বললেন, ‘আমি আল্লাহ্‌র দাস। তিনি আমাকে কিতাব (ইনজীল) প্রদান করেছেন এবং আমাকে নবী করেছেন’। ‘আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন ছালাত ও যাকাত আদায় করতে এবং আমার মায়ের অনুগত থাকতে। আল্লাহ আমাকে উদ্ধত ও হতভাগা করেননি’। ‘আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন জীবিত পুনরুত্থিত হব’ {মারিয়াম ১৯/২৯-৩৩}।

(২) ছাহেবে জুরাইজ (জুরাইজের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বাচ্চা)।

জুরাইজ একজন আবেদ বান্দা ছিলেন। তিনি নিজের জন্য একটি ইবাদতগাহ তৈরী করলেন। তিনি সেখানে থাকা অবস্থায় একদিন তার মা সেখানে আসলেন। এ সময় তিনি ছালাতে রত ছিলেন। তার মা বললেন, ‘হে জুরাইজ! তখন তিনি (মনে মনে) বলেন, ‘হে প্রভু! একদিকে আমার ছালাত আর অন্যদিকে আমার মা’।

জুরাইজ ছালাতেই রত থাকলেন। তার মা চলে গেলেন। পরবর্তী দিন তার মা আসলেন । এবারও তিনি ছালাতে মগ্ন ছিলেন। তার মা তাকে ডাকলেন, ‘হে জুরাইজ’! তিনি (মনে মনে) বলেন, ‘হে প্রভু! একদিকে আমার ছালাত আর অন্যদিকে আমার মা’।

তিনি তার ছালাতেই ব্যস্ত থাকলেন। এভাবে তৃতীয় দিনেও জুরাইজ একই কাজ করলে তার মা বললেন, ‘হে আল্লাহ! একে তুমি যেনাকারী নারীর মুখ না দেখা পর্যন্ত মৃত্যু দিও না’।  বনী ইসরাঈলের মধ্যে জুরাইজ ও তার ইবাদতের কথা আলোচিত হ’তে লাগল। এক ব্যভিচারী নারী ছিল। সে উল্লেযোগ্য রূপ-সৌন্দর্যের অধিকারিণী ছিল। সে বলল, তোমরা যদি চাও, আমি তাকে (জুরাইজ) বিভ্রান্ত করতে পারি। সে তাকে ফুসলাতে লাগল, কিন্তু তিনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না। অতঃপর সে তার ইবাদতগাহের কাছাকাছি এলাকায় এক রাখালের কাছে আসল। সে নিজের উপর তাকে অধিকার দিল এবং উভয়ে ব্যভিচারে লিপ্ত হ’ল। এতে সে গর্ভবতী হ’ল। সে বাচ্চা প্রসব করে বলল, এটা জুরাইজের সন্তান। বনী ইসরাঈল (ক্ষিপ্ত হয়ে) তার কাছে এসে তাকে ইবাদতগাহ থেকে বের করে আনল, তার ইবাদতগাহ ধূলিসাৎ করে দিল এবং তাকে মারধর করতে লাগল। জুরাইজ বললেন, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলল, তুমি এই নষ্টা মহিলার সাথে যেনা করেছ। ফলে একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তিনি বললেন, শিশুটি কোথায়? তারা শিশুটিকে নিয়ে আসল। জুরাইজ বললেন, আমাকে একটু সুযোগ দাও ছালাত আদায় করে নেই। তিনি ছালাত আদায় করলেন। ছালাত শেষ করে তিনি শিশুটির কাছে এসে তার পেটে খোঁচা মেরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই শিশু! তোমার পিতা কে’? সে বলল, ‘আমার পিতা অমুক রাখাল’।

উপস্থিত লোকেরা তখন জুরাইজের নিকটে এসে তাকে চুম্বন করতে লাগল এবং তার শরীরে হাত বুলাতে লাগল। আর তারা বলল, এখন আমরা তোমার ইবাদতগাহটি সোনা দিয়ে তেরী করে দিচ্ছি। তিনি বললেন, দরকার নেই, বরং পূর্বের মত মাটি দিয়েই তৈরী করে দাও। অতঃপর তারা তাই করল। (৩) একটি শিশুতার মায়ের দুধ পান করছিল। এমন সময় একটি লোক দ্রুতগামী ও উন্নত মানের একটি পশুতে সওয়ার হয়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তার পোষাক-পরিচ্ছদ ছিল উন্নত। শিশুটির মা বলল, ‘হে আল্লাহ! আমার ছেলেটিকে এই ব্যক্তির মত যোগ্য কর’।

শিশুটি দুধ পান ছেড়ে দিয়ে লোকটির দিকে এগিয়ে এসে তাকে দেখতে লাগল। অতঃপর বলল, ‘হে আল্লাহ! আমাকে এই ব্যক্তির মত কর না’? অতঃপর ফিরে এসে পুনরায় মায়ের দুধ পান করতে লাগল। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি যেন এখনও দেখছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিশুটির দুধ পানের চিত্র তুলে ধরছেন এবং নিজের তর্জনী মুখে দিয়ে চুষছেন। তিনি বলেন, লোকেরা একটি বাঁদিকে মারতে মারতে নিয়ে যাচ্ছিল। আর বলছিল, তুমি যেনা করেছ এবং চুরি করেছ। মেয়ে লোকটি বলছিল, ‘আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই আমার উত্তম অভিভাবক’।

শিশুটির মা বলল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার সন্তানকে এই নষ্টা নারীর মত কর না’।

শিশুটি দুধ পান ছেড়ে দিয়ে মেয়েটির দিকে তাকাল, অতঃপর বলল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এই নারীর মত কর’।

এ সময় মা ও শিশুটির মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গেল। মা বলল, হায় দুর্ভাগা! একটি সুশ্রী লোক চলে যাওয়ার সময় আমি বললাম,‘হে আল্লাহ! আমার সন্তানকে এরূপ যোগ্য করে দাও’। তুমি প্রত্যুত্তরে বললে, ‘হে আল্লাহ! আমাকে এর মত কর না’।

আবার এই ক্রীতদাসীকে লোকেরা মারধর করতে করতে নিয়ে যাচ্ছে এবং বলছে, তুমি যেনা করেছ এবং চুরি করেছ। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ! আমার  সন্তানকে এরূপ করোনা। তুমি বললে ,”হে আল্লাহ্‌ আমাকে এরূপ কর ।”    শিশুটি এবার জবাব দিল, প্রথম ব্যক্তি ছিল স্বৈরাচারী যালেম। সেজন্যই আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ! আমাকে এ ব্যক্তির মত কর না? আর এই মহিলাটিকে তারা বলল, তুমি যেনা করেছ। প্রকৃতপক্ষে সে যেনা করেনি। তারা বলছিল, তুমি চুরি করেছ। আসলে সে চুরি করেনি। এজন্যই আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ! আমাকে এই মেয়ে লোকটির মত কর’

{বুখারী হা/৩৪৩৬ ‘নবীদের কাহিনী’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪৮, হা/২৪৮২ ‘মাযালিম’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩৫; মুসলিম হা/২৫৫০ ‘সদ্ব্যবহার ও শিষ্টাচার’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২}

বেশি কথা বলা ইসলাম পছন্দ করে না, কিন্তু কেন দেখুন।

কথা বলা একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। মুখের ব্যবহারে কথা বলে মানুষ। প্রকাশ করে তার মনের ভাব-অভিব্যক্তি।

কিন্তু অনেক সময় মানুষের বাকশক্তির অপব্যবহার পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অকল্যাণ বয়ে আনে। বিপর্যয়ের কারণ ঘটায় জিহ্বার অবিবেচনাপ্রসূত ব্যবহার।

কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক ও সংযমী হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছে ইসলাম। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুখের হেফাজত ও কথাবার্তায় সংযমী হওয়ার ব্যাপারে বেশ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। তিনি নিজেও এ ব্যাপারে বেশ সতর্ক থাকতেন।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের সঠিক ব্যবহারের তথা হেফাজতের নিশ্চয়তা দিতে পারবে- আমি তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দিতে পারব।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট- সে যা শুনে তাই (সত্যতা যাচাই না করে) বলে বেড়ায়।

হাদিসে আরও ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে- অন্যথায় চুপ থাকে।

হাদিসে কম কথা বলার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। ওই সব হাদিসের মমার্থ হলো- কথা যত কম বলা যায়, ততই মঙ্গল। যে বেশি কথা বলে, তার বিপদ বেশি হয়। তাই তো হাদিসে বলা হয়েছে, যে চুপ থাকে সে মুক্তি পায়।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- যারা কম কথা বলেন, তারা বুদ্ধিমান। তাই মানুষের উচিত- প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা না বলা।

প্রয়োজনীয় কথার অর্থ হলো- যেসব কথা নেকি অর্জনের উদ্দেশ্যে বলা হয়, যেসব কথা গোনাহ থেকে বাঁচার জন্য বলা হয়, যেসব কথা না বললে পার্থিব ক্ষতি হয়।

বেশি কথার দ্বারা মানুষ অকারণে অনেক গোনাহে লিপ্ত হয়। এসব গোনাহের অন্যতম হলো- মিথ্যা বলা, গিবত করা, নিজের বড়ত্ব প্রকাশ করা, কাউকে অভিশাপ দেওয়া, কারও সঙ্গে অহেতুক তর্ক জুড়ে দিয়ে বিপদে ফেলা, অতিরিক্ত হাসিঠাট্টা করতে গিয়ে মানুষকে কষ্টে দেওয়া ইত্যাদি।

এক কথায় বলা চলে, কম কথা বলার অভ্যাস থাকলে বহু পাপ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

রোহিঙ্গাদের সমর্থনে কথা বলে বিপাকে বরুণ গান্ধী।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি’র লাইনের বিরুদ্ধে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সমর্থনে মুখ খোলায় বিপাকে পড়েছেন বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী। ভারতের কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী মানেকা গান্ধীর পুত্র হলেন বরুণ।

তিনি উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের বিজেপি সাংসদ। হিন্দি দৈনিক ‘নবরত্ন টাইমস’এ লেখা একটি আর্টিকেলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ভারতের সমৃদ্ধশালী ঐতিহ্যের কথাটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বদলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন বরুণ।

পরে ট্যুইটারে নিজের লেখা সেই আর্টিকেলটি শেয়ার করেন বরুণ লেখেন স্বাধীনতার পর থেকে ৪ কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় নিয়েছেন’। তিনি বলেন ‘যারা কাজের খোঁজে চলে আসছেন, আর যারা নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসছেন, তাদের আলাদা করার জন্য ভারতের উচিত জাতীয় শরণার্থী নীতি প্রণয়ন করা।

আফগানিস্তান ও মিয়ানমার থেকে ভারতে আসা শরণার্থীদের দিল্লিতে কাজ ও বাসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ভেদাভেদ করা হচ্ছে বলেও নিজের লেখায় উল্লেখ করেন বিজেপি সাংসদ।

ভারত সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এই রোহিঙ্গারা দেশের জাতীয় নিরপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি বলেও অভিমত কেন্দ্র সরকারের। সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে কেন্দ্র সেকথা জানিয়েও দিয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিএসএফ’কে আরও কড়া নজরদারি চালানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। এমন এক পরিস্থিতিতে বরুণ গান্ধীর এই মন্তব্য।

বরুণের ওই মন্তব্যের পরই দেশটির স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী হংরাজ আহির জানান, ‘দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি যদি কারও মাথায় থাকে তবে তাঁর এমন ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়। সরকার যেখানে দেশের স্বার্থের কথা মাখায় রেখে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়াটা উচিত নয়’।

তবে বিতর্ক ওঠার পরই বরুণ গান্ধী জানান, তিনি কেবলমাত্র শরণার্থীদের সহমর্মিতার কথা বলতে চেয়েছেন।