রম্য রচনাঃ ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় গরম নিয়ে গরম গরম কথা।

আমার প্রতিবেশীর সঙ্গে বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় গরম নিয়ে কথা হচ্ছিল। কথায় কথায় তিনি বললেন, ‘আমি মনে করি, গরম পড়লে এমন গরমই পড়া উচিত। হালকা গরম পড়লে ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ নেই। অথচ এই ধরনের ফাটাফাটি গরম পড়লে কেবল লাভ আর লাভ।’

আমি বললাম, ‘মানুষ গরমে অতিষ্ঠ, আর আপনি দেখছেন লাভ। বুঝলাম না ব্যাপারটা! একটু বুঝিয়ে বলেন তো…’

প্রতিবেশী বুঝিয়ে বললেন, ‘হালকা গরম পড়লে কী হয়? চামড়ায় ঘামাচি ওঠে। আর ঘামাচির যন্ত্রণা কিন্তু সাংঘাতিক। সারাদিন চুলকাতে হয়। এই যন্ত্রণা আবার ব্যয়বহুলও বটে। কারণ, চুলকানি কমানোর জন্য পাউডার মাখতে হয়। এই পাউডার লেগে জামাকাপড় নষ্ট হলে সেই জামাকাপড় ধুতে গিয়ে সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার ইত্যাদি খরচ করতে হয়। কিন্তু এখন যে পরিমাণ গরম পড়েছে, তাতে এইসব খরচটরচের বালাই নেই। মানে এই গরমে ঘামাচি ওঠারও চান্স নেই, খরচের আশঙ্কাও নেই।’

আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘হালকা গরমে ঘামাচি উঠতে পারলে কড়া গরমে ঘামাচি উঠবে না, এই আজব ফর্মুলা আপনি পেলেন কোথায়?’

প্রতিবেশী বললেন, ‘এইটা ফর্মুলার বিষয় নারে ভাই। সামান্য একটু ঘিলু খাটালেই বিষয়টা বোঝা যায়। আরে বাপুরে, এখন যে গরম পড়েছে, এই গরমে গায়ের চামড়া কি নরমাল থাকে? পুড়ে কাবাব টাইপ হয়ে যায় না? আর পোড়া চামড়ায় ঘামাচি উঠবে, ঘামাচি কি এতই সস্তা?’

যা-ই বলেন, যুক্তি কিন্তু দারুণ। দাগ থেকে যদি দারুণ কিছু হয় তাহলে দাগই যেমন ভালো, ঠিক তেমনই পোড়া চামড়ায় যদি ঘামাচি না হয় তাহলে গরমে চামড়া পুড়ে যাওয়াই ভালো। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টা ভুলে গেলে কিন্তু চলবে না।

আমার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা সপ্তাহখানেক আগে। সে এখনো বিয়ে করেনি। তার পরিবার যদিও অনেকদিন ধরেই চাপ দিচ্ছিল বিয়ের জন্য। কিন্তু সে বরাবরই ছিল নির্বিকার। তো তার সঙ্গে দেখা হতেই আমি বিয়ের প্রসঙ্গটা তুললাম। সে বলল, ‘আমার তো খুব ইচ্ছে ছিল বিয়েটা এখনই করে ফেলব। কিন্তু যা গরম পড়েছে, তাতে বিয়ে করতে গেলে অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে যেতে হবে। এরচেয়ে ভালো বিয়ে থেকে আপাতত বিরত থাকি।’

আমি বললাম, ‘মানুষ বিয়ে করতে যায় ফুলে ফুলে সাজানো গাড়ি নিয়ে। আর তোকে যেতে হবে নাকি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে। কারণটা কী বল তো?’

বন্ধু বলল, ‘কারণ আর কিছু না। কারণ হলো গরম। যা গরম পড়েছে, এই গরমে যদি শেরোয়ানি আর পাগড়ি পরি, তাহলে আমার তো মনে হয় অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত নেওয়ার টাইমও পাওয়া যাবে না। তার আগেই আমি শেষ। তবে এই সিজনেও আমি বিয়ে করতে রাজি আছি, যদি শেরোয়ানির পরিবর্তে স্যান্ডো গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরে বিয়ে করতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।’

আমার এক বড়ভাইকে ফোন দিলাম গতকাল। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোথায় আছেন?

বড় ভাই বললেন, ‘চুলার উপর বসে আগুন পোহাচ্ছি।’

আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘মানুষ আগুন পোহায় কনকনে শীতের সিজনে। আপনি এই গরমের মধ্যে চুলার উপর বসে আগুন পোহাচ্ছেন মানে?’

বড় ভাই বললেন, ‘মানে হলো আমি এখন সিএনজিতে আছি। আর এখন যা গরম পড়েছে, এই অবস্থায় সিএনজির ভিতর কিছুক্ষণ অবস্থান করা আর চুলার উপর বসে আগুন পোহানোর মধ্যে বিশেষ কোনো ফারাক নেই।’

আমার এক ছোটভাই বলল, ‘ভাই, যা গরম পড়েছে, তাতে রোগবালাইয়ের পরিমাণ বেড়ে গেছে।

আমি বললাম, ‘গরম বাড়লে রোগ বালাই বেড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। গরমের সময় নানা ধরনের রোগ বালাই হতে পারে। যেমন…’

ছোটভাই আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘আপনি যেসব রোগের কথা বলবেন, আমি সেগুলোর কথা বলছি না। আমি অন্য রোগের কথা বলছি। আর গরমের কারণে কীভাবে সেসব রোগ হয়, সেটাও শুনে নিন।’

আমি বললাম, ‘কীভাবে হয়?

ছোটভাই বলল, ‘কীভাবে আবার। একটু আগে আমি গরমে অতিষ্ঠ হয়ে জিহ্বা বের করে হাঁপাচ্ছিলাম। তো আমার জিহ্বায় কখন যে মাছি বসেছে টের পাইনি। ব্যস, মুখ বন্ধ করে জিহ্বা যখন মুখের ভিতর নিয়ে নিলাম, মাছিও চলে গেল মুখের ভিতর। অতঃপর পেটের ভিতর। যতদূর মনে হচ্ছে, মাছি খেয়ে ফেলার কারণে আমি পার্মানেন্ট ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে যাচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *